1. jubayer.jay@gmail.com : jubayer Ahmed : jubayer Ahmed
  2. admin@sylhetmail24.com : jubayer :
  3. shahabuddin1234@gmail.com : shuhebkhan :
  4. unoskhanrukon@gmail.com : unoskhan :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন

হতাশ আমিরাত কার্গো ব্যবসায়ীরা, রাষ্ট্রদূতের সাথে মতবিনিময়

  • প্রকাশিত হয়েছে: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ সাত মাস ধরে করুণ অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাত কার্গো ব্যবসায়ীরা। বৈশ্বিক মহামারি করোনায় আকাশ ও নৌ পথে নিয়মিত যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অচলাবস্থা বিরাজ করছে এই ব্যবসায়। অনেকের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে করোনা সমস্যা কাটিয়ে উঠলেও সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরে প্রবাসীদের প্রায় ৬০ টন মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ করেন কার্গো ব্যবসায়ীরা। কার্গো ব্যবসায়ীদের এ সমস্যা সমাধানের আশায় তারা গতকাল রবিবার কার্গো ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আমিরাতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবু জাফরের সাথে জরুরী মতবিনিময় সভা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার বেহাল পরিস্থিতির কথা জানান। সঠিক সময়ে মালামাল পৌছে দিতে না পারাই প্রবাসী গ্রাহকদের মাঝে চরমঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে যে কারণে যেকোনো সময় তাদের উপর হামলার আশংকা করছেন বলে উল্লেখ করেন এসব নিরীহ ব্যবসায়ীরা।

এসময় সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন বঙ্গবন্ধু পরিষের সভাপতি ইফতেখার হোসেন বাবুল বলেন করোনার কারণে এমনিতে ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই এ অবস্থায় যদি বিমান বন্দর গুলো নানা অজুহাত দেখিয়ে মালামাল আটকিয়ে দেই তাহলে কার্গো ব্যবসায়ীদের দেওলিয়া হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। পাশাপাশি যারা নিষিদ্ধ বা অবৈধ মালামাল পাঠিয়ে কাস্টমসে জটিলতা সৃষ্টি করেছে তাদেরকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন তিনি। এ সময় তিনি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানেরও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসময় কার্গো ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ক্যান ক্যান ট্রাভেল এন্ড কার্গোর অন্যতম স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ জানে আলম চৌধুরী বলেন দেশে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন কার্গো প্রতিষ্ঠানে প্রবাসীদের মালামাল জমা করলেও সেগুলো পড়ে আছে লম্বা সময় ধরে। কেউ কেউ মালামাল ফেরত নিলেও অধিকাংশই পড়ে আছে কার্গো অফিসগুলোতে। লাখ লাখ টাকার এসব মালামাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলেও আশংকা করেছেন তিনি। দ্রুত মালামাল খালাসের ব্যবস্থা করা না হলে কার্গো ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে বলে জানান মুহাম্মদ জানে আলম। এছাড়াও লিখিত অভিযোগ পত্র সাবমিট করেছেন এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি।

কার্গো ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর উপদেষ্টা ও টপটেন কার্গোর প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ শওকত আকবর জানান আমিরাতের সাতটি প্রদেশে প্রায় ৫০টির বেশি কার্গো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে নূন্যতম ৪/৫ জন কর্মচারী কাজ করে, যাদের অধিকাংশই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। করোনার প্রভাবে ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্গো ব্যবসা বন্ধ থাকায় প্রায় এক হাজারের বেশি প্রবাসীর আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও তিনি আমিরাত থেকে সরসরি চট্টগ্রামের ফ্লাইট চালুর দাবী জানান।

কার্গো ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সিটি স্টার কার্গোর স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম অভিযোগ করেন, করোনার শুরু থেকে কার্গো ব্যবসায়ীরা অসহায়। করোনার সময় যেসব মাল দেশে গেছে সেগুলোও সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরের কাস্টমসে আটকে আছে। ব্যবসা বন্ধ থাকায় প্রায় সব প্রতিষ্ঠান স্টাফদের বেতন দিতে পারছেনা। এতে তাদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এ ব্যাপারে একটি সুনির্দ্দিষ্ট নীতিমালা দাবি করে আসছি। কেননা, ছোটখাটো সমস্যার কারণে মাসের পর মাস কাস্টমসে মালামাল পড়ে থাকে। চালান বন্ধ হয়ে যায়। দেশে এই সমস্যা সৃষ্টি হলেও প্রবাসী ব্যবসায়ীদের উল্টো মামলা ও পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়।

মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত এ সমস্যা সমাধানের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি এনবিআর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

কষ্টার্জিত অর্থে কেনা এসব মালামাল নিয়ে প্রবাসীরাও রয়েছেন উৎকণ্ঠায়।
মুহাম্মদ সাইফুল আলম নামে একজন আবুধাবি প্রবাসী বলেন গত মার্চ মাসের ১৯ তারিখ আবুধাবির একটি কার্গো কোম্পানির মাধ্যমে আমার ৬০ কেজি ও আমার বন্ধু মুহাম্মদ নুরুল ইসলামের ৭০ কেজি মালামাল দিয়ে সেদিন আমি দেশে চলে যায়। গত ৪ সেপ্টেম্বর আমি দেশ থেকে ফিরে আসি কিন্তু এখনো মালামাল দিতে পারেনি তারা। তাদের সাথে যখনই যোগাযোগ করি তারা সিলেটে মালামাল আটকে রাখা হয়েছে বলে জানাই। সাইফুল আরো বলেন দীর্ঘদিন পর প্রবাস থেকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে দেশে যায়, আমার সব মালামাল ছিলো বিয়ের সামগ্রী কিন্তু মালামাল গুলো না পাওয়ায় পুনরায় দেশ থেকে সবকিছু কিনতে হয়েছে। বাংলাদেশি টাকাই প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে বলে জানান সাইফুল।

কার্গো ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জানে আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলমের পরিচালনায় অন্যানের মাঝে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের উপ-রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, কাউন্সিলর মুহাম্মদ রিয়াজুল হক এসোশিয়েশনের উপদেষ্ঠা শওকত আকবর, মুহাম্মদ নাছির তালুকদার, মুহাম্মদ মাসুদ পারভেজ, জাহাঙ্গির আলম, কাজী সৈয়দ তারেক সহ আরো অনেকে।

সিলেট মেইল টুয়েন্টিফোর ডটকম/ডেস্ক/জেএ

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ
DMCA.com Protection Status