1. jubayer.jay@gmail.com : jubayer Ahmed : jubayer Ahmed
  2. admin@sylhetmail24.com : jubayer :
  3. shahabuddin1234@gmail.com : shuhebkhan :
  4. unoskhanrukon@gmail.com : unoskhan :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন

নতুন রূপ পাচ্ছে টিলাগড়ের সেই দখলমুক্ত মাঠ

  • প্রকাশিত হয়েছে: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

সিলেট নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন, ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের টিলার পাদদেশে প্রায় ৫০ শতক জায়গা। ১৫-২০ কোটি টাকা মূল্যের এই জায়গা দীর্ঘদিন ধরে ছিল পরিত্যক্ত ও বেদখল। এক অংশ দখল করে চলত বাঁশের ব্যবসা। একাংশ ছিল ময়লার ভাগাড়। ময়লার দুর্গন্ধে ওই জায়গার পাশ দিয়ে যেতে হতো নাক চেপে।

প্রায় ৮ বছর আগে এই জায়গা দখলমুক্ত করে তৈরি করা হয়েছিল শীতকালীন খেলার মাঠ। শীতকালে মাঠে আয়োজন হতো ব্যাডমিন্টন ও ফুটসালসহ নানা রকমের ক্রীড়ানুষ্ঠানের। দখলমুক্ত হওয়া সেই মাঠ এখন পেতে যাচ্ছে নতুন রূপ। গড়ে তোলা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মাঠ, মুক্তমঞ্চ, ওয়াকওয়ে ও ফুডকোর্ট।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেটে পাকসেনাদের প্রথম প্রতিরোধ করা হয় নগরীর প্রবেশদ্বার টিলাগড় পয়েন্টে। এই স্মৃতি ধরে রাখতে পয়েন্টের পূর্ব-উত্তর দিকে স্থাপন করা হয় সিলেটের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সংবলিত একটি স্মারক স্তম্ভ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওই স্থানটি ছিলো পরিত্যক্ত ও বেদখল।

সিলেট সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ জানান, এক সময় মূল্যবান ওই জায়গাটি পুরোই বেদখল ছিলো। মরা পশু এনে মানুষ ওই জায়গায় ফেলা হতো। জায়গার একাংশ দখল করে কিছু লোক ব্যবসা করতেন।

২০১০ সালে তিনি জায়গাটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া নেন কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। ওই সময় সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নাইওরপুলস্থ রামকৃষ্ণ মিশনের পুকুর খননের কাজ শুরু হলে সেখান থেকে মাটি নিয়ে জায়গাটি ভরাট করা হয়। এ সময় ওই জায়গাটি দখলমুক্ত করতে গিয়ে অনেক বেগ পেতে হয় তাকে। জায়গাটি দখলমুক্ত করার পর ২০১২ সালে তিনি ওই মাঠে ‘কাউন্সিলর আজাদ ফুটসাল টুর্নামেন্ট’র আয়োজন করেন। এর পরের বছর আয়োজন করেন ‘কাউন্সিলর আজাদ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট’র।

প্রতিবছর আয়োজিত টুর্নামেন্টে সিলেটসহ সারা দেশের পাঁচ শতাধিক টিম অংশ নিত। ফলে একপর্যায়ে খেলার মাঠ হিসেবেই পরিচিতি পায় জায়গাটি। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শুরুতেও অনুষ্ঠিত হয় ফুটসাল টুর্নামেন্ট।

কাউন্সিলর আজাদ আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসংবলিত জায়গাটি যাতে আর কখনো দখল না হয় সেজন্য তিনি সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যে এর একটা নকশাও তৈরি করা হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় ওই জায়গার মূল অংশ রাখা হয়েছে খেলার মাঠ হিসেবে। যেখানে নিয়মিত আয়োজন করা যাবে ফুটসাল, ব্যাডমিন্টন, ভলিবলসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা। মাঠের পূর্ব দিকে নির্মাণ করা হবে দৃষ্টিনন্দন মুক্তমঞ্চ। ওই মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা ছাড়াও ব্যবহার করা যাবে সভা-সমাবেশের মঞ্চ হিসেবে। মাঠের পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশে করা হবে পার্কের আদলে বাগান আর দক্ষিণে টিলার গাঘেঁষে হবে মিনি গ্যালারি। সকাল ও বিকালে যাতে স্থানীয় লোকজন হাঁটা-হাঁটি করতে পারেন সেজন্য মাঠের চারদিকে থাকবে ওয়াকওয়ে। এ ছাড়া মাঠের পূর্বদিকে মুক্তমঞ্চের পাশে নির্মাণ করা হবে দুই তলা একটি ভবন। ভবনটির নিচতলা থাকবে খালি আর দোতলায় হবে ফুডকোর্ট।

প্রকল্পটির নকশা তৈরি করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুব্রত দাশ।

অধ্যাপক সুব্রত দাশ জানান, প্রকল্পটি হবে খুবই দৃষ্টিনন্দন। এমসি কলেজের টিলার পাদদেশে এরকম দৃষ্টিনন্দন খেলার মাঠ ও ওয়াকওয়ে সিলেট নগরীর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে অনেকগুণ।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ
DMCA.com Protection Status