1. jubayer.jay@gmail.com : jubayer Ahmed : jubayer Ahmed
  2. admin@sylhetmail24.com : jubayer :
  3. shahabuddin1234@gmail.com : shuhebkhan :
  4. unoskhanrukon@gmail.com : unoskhan :
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

সিলেটে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তিতে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

  • প্রকাশিত হয়েছে: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

অস্থির সিলেটের নিত্যপণ্যের বাজার। প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। দাম বেড়েছে পেঁয়াজেরও। বেশিদরে বিক্রি হচ্ছে সবজি; ঝাল বেশি কাঁচামরিচেরও। দাম বাড়তির কারণে এসব নিত্যপণ্য কিনতে নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের।

ক্রেতাদের অভিযোগ, মোটা চাল থেকে শুরু করে বাজারে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দরই বাড়তির দিকে। আর সবজির বাজারে ৫০ টাকা নিচে কোনো সবজিই মিলছে না।

আর চাল ব্যবসায়ীদের বলছেন, ধানের দাম বাড়ায় চালের দাম বেড়েছে। বাজার স্থিতিশীল করতে হলে চাল আমদানি প্রয়োজন। এজন্য অন্তত আমন ধান আসার আগ-পর্যন্ত চাল আমদানির ওপর জোর দিলে বাজার স্থিতিশীল হবে বলেও মন্তব্য তাদের।

সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েকদফা বন্যার কারণে এ বছর মৌসুমি সবজির ফলন ভালো হয়নি। এ কারণে আড়তে সবজি আসছে কম। ফলে দামও বেশি। তবে শীতকালিন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন তারা।

সিলেটের বড় চালের আড়ত কালিঘাট ও শেখঘাট এলাকায়। এখান থেকে মূলত পুরো জেলার চাল সরবরাহ করা হয়। পাইকারি এ বাজারে সরু ও মাঝারি চালের তুলনায় বেশি বেড়েছে মোটা চালের দাম। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বস্তাপ্রতি চালের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে সবধরনের চালের দাম কেজিতে ২ টাকা থেকে ৫ টাকা বেড়েছে।

বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা সিদ্ধ মোটা চাল কিনতে ক্রেতাদের খরচ হচ্ছে ২০৫০ টাকা থেকে ২১০০ টাকা। এই চাল সপ্তাহ দু’য়েক আগে বিক্রি হয়েছে ১৮৫০ টাকায়। সেই হিসেবে প্রায় ২০০ টাকারও বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

প্রকারভেদে মাঝারি ও চিকন চালের প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২১৫০ টাকা থেকে ২৬৫০ টাকায়। এসব চালের বস্তা প্রতি ১ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। আর স্থানীয় জাতের ৫০ কেজি বস্তার চিনিগুঁড়া ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকায়, দিনাজপুরের চিনিগুঁড়া ৩৪০০ থেকে ৩৬০০ টাকায়, কালিজিরা ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের থেকে ১৫০ টাকা বেশি।

নগরের বালুচর এলাকার খুচরা চাল বিক্রেতা শাহেদ জানান, মোটা চালের দাম কেজিতে ৪/৫ টাকা করে বেড়েছে। তার দোকানে সর্বনিম্ন ৪৬ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করছেন। যেখানে দুই সপ্তাহ আগে ৪০ টাকা দরের বিক্রি করতে পারছিলেন। পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি ও কালিঘাট চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী ফারুক আহমদ বলেন, গত দু’সপ্তাহ আগেও চালের বাজার স্থিতিশীল ছিল। তবে সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করার পর থেকে চালের বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী মুখী হতে থাকে। আমন ধান না ওঠা পর্যন্ত চাল আমদানির ওপর জোর দিলেই বাজার স্বাভাবিক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, সিলেটের পেঁয়াজের বাজারও অস্থিতিশীল। বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ কম থাকায় দাম কমছে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বুধবার (৭ অক্টোবর) সিলেটের বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। অবশ্য রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। কমেছে আদার দামও। আদা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়।

বাজারে কাঁচামরিচের দামও বাড়তির দিকে। এক কেজি কাঁচামরিচ কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। যেখানে গত সপ্তাহে দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। একই ভাবে বাজারের বিভিন্ন ধরনের সবজি থাকলেও সবধরনের সবজির দামই বেশি।

নগরের একাধিক সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ফুলকপি ৬০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, শিম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ডেড়শ ৫০ টাকা, চিচিন্দা ৫০ টাকা, আলু ৪০ টাকা, জলপাই ৫০ টাকা কেজি; লাউ প্রতিপিস ৭০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ১০ থেকে ৩০ টাকায় এক হালি লেবু এবং ২০ টাকা করে প্রতি আটি লালশাক, পুঁইশাক, লাউয়ের ডগাসহ বিভিন্ন প্রকারের শাক পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কোয়েল পাখি পিসপ্রতি ২৫ থেকে ৫০ টাকা, লেয়ার মুগরি পিসপ্রতি ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মুরগির ডিম হালিপ্রতি ৩৮ থেকে ৪২ টাকা দরে মিলছে। অবশ্য দেশি মুরগির ডিম কিনতে প্রতি হালিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর হাসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

ব্রহ্মময়ী বাজারে নিত্যপণ্য এবং সবজি কিনতে আসা আফজল আহমেদ বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তি। এ কারণে বাজারের হিসেবে টান পড়েছে। কোনোরকমে বাজার করে মাস চালাতে হবে।

শ্রমজীবী নাসিম জানান, তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। এখন কাজ তেমন নেই। তাই আয়ও কম। কিন্তু বাজারে সবকিছুরই দাম বেশি। বিশেষ করে চালের দাম বাড়ায় কষ্ট বেশি হচ্ছে তার। কারণ চাল কিনতে পারলে কোনোরকমে ডাল-ভাত খেয়ে দিন কাটানো যায়। চালের দাম বাড়ার কারণে তিনি বিপাকে পড়েছেন।

শুধু নগরই নয়; সিলেটের সবকটি উপজেলার বাজারেও নিত্যপণ্যের দর বেড়েছে। জেলা প্রশাসন বলছে, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রিকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাৎক্ষণিক দণ্ড দেওয়া হচ্ছে। আর তা অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ
DMCA.com Protection Status